মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তি

 

 

জনাব এইচ টি ইমাম

 

 

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা,বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রীপরিষদ সচিব ,রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ।

হোসেন তওফিক ইমাম ১৯৭১ সালে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে দেশের পুর্বাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে এবং পরবর্তীকালে মুজিবনগর সরকারের কাজকর্ম পরিচালনায় তাঁর ভুমিকা অনন্য। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর নাম কিংবদন্তি তূল্য । তিনি এইচ,টি, ইমাম নামেই সমধিক পরিচিত ।

১৯৩৭ সালের ১৫ই জানুয়ারী তারিখে টাংগাইল শহরে তাঁর জন্ম । পিতা মরহুম তফসির উদ্দিন আহমেদ বি,এ, বি,এল, এবং মাতা মরহুম তাহসিন খাতুন ।  শিক্ষা জীবনের শুরু রাজশাহীতে  এবং পশ্চিম বঙ্গের বাঁকুড়া ও কলকাতায় ।  ১৯৪৭ সালে চুয়াডাঙ্গা ভি ,জে হাই স্কুলে,  ঢাকা কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৫৪ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৬৫ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং ১৯৫৮ সালে ঢাকা শ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থশাস্ত্রে  এম,এ, ডিগ্রী লাভ করেন । তৎকালীন নিখিল পাকিস্তানী সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থস্থান অধিকার করে তিনি ১৯৬১ সালে সিএসপি হন । এর আগে তিনি রাজশাহী সরকারী কলেজে অর্থনীতি বিভাগে লেকচারার পদে কর্মরত ছিলেন ।  ছাত্র অবস্থাতেই রাজনীতি সচেতন ছিলেন । তিনি ১৯৫২ সাল থেকে পূর্বপাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এবং প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সাথে সংশি­ষ্ট হন । ১৯৫২-৫৪ শিক্ষাবর্ষে পাবনা কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক, ১৯৫৪-৫৬ শিক্ষাবর্ষে  রাজশাহী সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন । ১৯৫৬-৫৭ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (ডাকসুর) কমনরুম সেক্রেটারী নির্বাচিত হয়েছিলেন । ১৯৬২-৬৩ সালে তিনি রাজশাহী জেলায় অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার, ১৯৬৩-৬৪ সালে নওগাঁর এসডিও, ১৯৬৪ সালে নারায়ণগঞ্জের এসডিও, ১৯৬৫  সালে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ১৯৬৫-৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিনের একান্ত সচিব, ১৯৬৮-৬৯ সালে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান সরকারের অর্থ বিভাগের উপ-সচিব পদের দায়িত্ব পালন করেন । মাঝখানে ১৯৬৭-৬৮ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সে অধ্যায়ন করেন । চাকুরী জীবনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক ও সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব, পানিং ডিভিশনের সচিব, পানিং কমিশনের সদস্য, জেলা প্রশাসক, পিএটিসির প্রকল্প পরিচালক এবং যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের কার্য নির্বাহী পরিচালক পদের দায়িত্ব পালন করেন ।  ১৯৯৬-৯৭ সালে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন । বর্তমানে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন ও প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

ফতেহ  লোহানী

 

 

 

ফতেহ  লোহানী

সিরাজগঞ্জ থানার কাওয়াকোলা গ্রামে আবু লোহানীর আদি বাসস্থান ছিল। কিন্তু যমুনার

 

ভাঙ্গনে কাওয়াকোলা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে উল্লাপাড়া থানার শোনতলা গ্রামে তারা বসতি

 

স্থাপন করেন। আবু লোহানী -এর বড় ছেলে ফতেহ লোহানী একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক,

 

চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, নাট্যাভিনেতা ও ঢাকা বেতার কেন্দ্রের নিয়মিত

 

কথিকা লেখক ছিলেন। ফতেহ লোহানী কলকাতার নাট্যাঙ্গনে অভিনয় করেছেন এবং ‘কিরন

 

কুমার’ ছদ্ম নাম নিয়ে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। সাবেক পূর্ব পাকিসত্মানে আব্দুল

 

জববার খানের পাশাপাশি ফতেহ লোহানীও চলচ্চিত্রের গোড়াপত্তনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা

 

রেখেছেন। ফতেহ লোহানীর পরিচালিত ‘আসিয়া’ ছায়াছবিটি রাষ্ট্রীয় পুরষ্কারে ভূষিত

 

হয়েছিল। ফতেহ লোহানীর কবিতা ছিল খুবই হৃদয়গ্রাহী। তাঁর সম্পাদিত ‘অগত্যা’ সাহিত্য

 

মাসিকটি অল্প দিনের মধ্যে দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে উঠে। মওলানা আকরম খাঁর মাসিক

 

‘মোহাম্মদী’, কবি আবদুল কাদিরের সরকারী মাসিক পত্রিকা ‘মাহে-নও’ ইত্যাদির পাশে

 

ফতেহ লোহানীর মাসিক ‘অগত্যা’ সম্পূর্ণ আলাদা ইমেজ নিয়ে পাঠক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি

 

করেছিল। তবে ফতেহ লোহানীর কোন বই প্রকাশিত হয়নি।

 

 

 

ফজলে লোহানী

 

 

 

 

 

 

ফজলে লোহানী

উল্লাপাড়া উপজেলার

সলপ ইউনিয়নের

সোনতলা গ্রামে জন্ম।

 

 

 

 

জন্ম

১৯২৭

 

মৃত্যু

১৯৮৫

 

 

 

ফজলে লোহানী
 

১৯২৭ সালে উল্লাপাড়া থানার শোনতলা গ্রামে প্রখ্যাত আবু লোহানীর ঔরষে ফতেহ লোহানী, ফজলে লোহানী,

 

কামাল লোহানী ও হুসনা বানু প্রমুখ প্রতিভাশালী ছেলেমেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের টিভি রিপোর্টার হিসাবে

 

ফজলে লোহানী মতো প্রতিভার সাক্ষাৎ আর কখনো মিলবে কিনা সন্দেহ আছে। ‘‘যদি কিছু মনে না করেন’’ এই

 

শিরোনামে প্রতি মাসে পাক্ষিক দুটি টিভি রিপোর্টিং দেখার জন্য লক্ষ লক্ষ টিভি দর্শক বিপুল আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা

 

করতো। ভয়েস অব আমেরিকা ও রয়টারের জগত বিখ্যাত  টিভি রিপোর্টারদের সমকক্ষ ফজলে লোহানী অপূর্ব

 

ভঙ্গিমায় টিভি পর্দায় হাজির হয়ে দর্শকবৃন্দের বিপুল করতালির মধ্যে কখনো হাসি আনন্দ, কখনো বেদনা

 

ভারাক্রামত্ম টিভি রিপোর্টিং এর মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখতেন। তার অপর একটি টিভি রিপোটিং বিশেষভাবে

 

উল্লেখযোগ্য। মওলানা ভাসানী যখন মহীপুরে বিশাল প্রজা সম্মেলন করছিলেন, তখন ফজলে লোহানী গিয়েছিলেন

 

সেই মহীপুরে, মওলানা ভাসানাীর সাক্ষাৎকারের উপর টিভি রিপোর্টিং করবার জন্য। পরে ফজলে লোহানীর সেই

 

রিপোর্টটি ‘মহীপুরের প্রামত্মরে’ নামে পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বিভিন্ন মহলে তা ব্যাপক আলোচনার বস্ত্ততে পরিণত

 

হয়েছিল। তিনি ‘পেনশন’ নামে একটি ছায়াছবিরও প্রযোজনা করেন। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে ১৯৮৫ সালে তিনি

 

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

 

 

 


Share with :

Facebook Twitter